অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে নিহত নুসরাত জাহান রাফি। ফাইল ছবি

‘শুধু মেয়ে হত্যার বিচার চাই’

‘চিকিৎসকরা আমার মেয়েকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাঁচাতে পারেননি।’

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৫৮ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৫৮
প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৫৮ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৫৮


অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে নিহত নুসরাত জাহান রাফি। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) ‘এখন আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই। আমি আমার মেয়ের হত্যার দ্রুত বিচার চাই’—এভাবেই কথাগুলো বলেছেন নুসরাত জাহান রাফির বাবা একেএম মুসা মানিক।

১১ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে বার্ন ইউনিটের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

১০ এপ্রিল, বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (১৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে।

নিজের মেয়েকে নিষ্পাপ দাবি করে একেএম মুসা মানিক বলেন, ‘হেনস্তার প্রতিকার চেয়ে খুন হলো সে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে আইনের আওতায় এনে তাদের শাস্তি দেওয়া হলেই আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে।’

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় নুসরাতের স্বজনরা তার মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হন।

নুসরাতের বাবা বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আপনারা আমার মেয়ের জন্য অনেক করেছেন। এখানকার চিকিৎসকরা আমার মেয়েকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাঁচাতে পারেননি। এখন আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই। আমি আমার মেয়ের হত্যার দ্রুত বিচার চাই। আমার মেয়ে হত্যার বিচারটা যেন দ্রুত হয়। যারা অপরাধী তারা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।’

তিনি বলেন, ‘তাকে প্রথমে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তার প্রতিকার চেয়েছিল নুসরাত। থানায় গিয়েছিল মামলা দিতে, কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। পরে নৃশংসভাবে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলছি...।’

এটুকু বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মুসা। চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু আমার মেয়ের শান্তি চাই, আর তা হতে পারে বিচারের মধ্য দিয়ে...।’

গত শনিবার সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতর নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। ফেনীর সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নুসরাত ওই মাদরাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিল।

আগুনে হত্যাচেষ্টার পর নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়। তার চিকিৎসায় গঠিত হয় মেডিকেল বোর্ড। পরে গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী