যারা শপথ নিয়েছেন তাদের সরকার কোনো চাপ দেয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির এমপিদের শপথে সরকারের চাপ নেই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সফরকালে ব্রুনাইয়ের সুলতান আমার এবং আমার সফরসঙ্গীদের প্রতি যে আতিথেয়তা ও সম্মান দেখিয়েছেন, তা ছিল খুবই বিরল।’

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৫৬ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৫৬
প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৫৬ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৫৬


যারা শপথ নিয়েছেন তাদের সরকার কোনো চাপ দেয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিষয়ে সরকারের কোনো চাপ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্রুনাই দারুসসালামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদ্য সমাপ্ত তিন দিনের সরকারি সফর নিয়ে ২৬ এপ্রিল, শুক্রবার বিকেলে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা শপথ নিয়েছেন, তারা স্বেচ্ছায় শপথ নিয়েছেন। এ নিয়ে সরকারের কোনো চাপ নেই। যারা তাদের নির্বাচিত করেছেন তারাই (জনগণ) শপথ নেওয়ার বিষয়ে তাদের চাপ দিচ্ছেন।’

ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়ার আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল ব্রুনাই সফর করেন। সফরে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং একটি বিনিময় নোট স্বাক্ষরিত হয়। এটাই ছিল ব্রুনাইতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর।

টানা তৃতীয় বার সরকার গঠনের পর ব্রুনাই ছিল প্রথম সরকারি সফর—এমন তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সফরকালে ব্রুনাইয়ের সুলতান আমার এবং আমার সফরসঙ্গীদের প্রতি যে আতিথেয়তা ও সম্মান দেখিয়েছেন, তা ছিল খুবই বিরল।’

তিনি বলেন, ‘এ সফর দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। সার্বিক বিবেচনায় এ সফর দু’দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা  ইস্যুতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন ব্রুনাইয়ের সুলতান। রোহিঙ্গা সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধানে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আশিয়ান, আঞ্চলিক ও বিশ্ব নেতাদের সহযোগিতা কামনা করি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের একটা চুক্তিও হয়েছে। যে মুহূর্তে রোহিঙ্গা যাওয়ার কথা সেই মুহূর্তে তারা প্রতিবাদ শুরু করল যে তারা যাবে না। রোহিঙ্গারা ফেরত গেলে চীন, ভারত ও জাপান তাদের জন্য ঘরবাড়ি করে দিতেও রাজি। প্রত্যেক দেশেই কিন্তু তাদের কিছু কিছু রিফিউজি আছে। এদের সঙ্গে আমি আলোচনা করেছি।’

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি এই নৃশংস হামলার নিন্দা জানিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে শোকবার্তা পাঠাই। এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে জনমত সৃষ্টি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ করছি। এ হামলায় আমার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিম এমপির নাতি আট বছরের নিষ্পাপ শিশু জায়ান চৌধুরী নিহত হয়েছে।’

গত ২১ এপ্রিল, রবিবার স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটার দিকে সুলতান হাসানাল বলকিয়ার নিমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে ব্রুনাই সফরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল/আজাদ চৌধুরী