সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন। ছবি: প্রিয়.কম

পলাশকে হত্যার অভিযোগ, বিচার বিভাগীয় তদন্তে দাবি খোকনের (ভিডিও)

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন পলাশ হত্যার অভিযোগ করে এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ মে ২০১৯, ১৯:০৫ আপডেট: ০৫ মে ২০১৯, ২২:৫২
প্রকাশিত: ০৫ মে ২০১৯, ১৯:০৫ আপডেট: ০৫ মে ২০১৯, ২২:৫২


সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) পঞ্চগড় জেলা কারাগারে (কারা হেফাজতে) থাকা অস্থায় আইনজীবী পলাশ কুমার রায়কে পরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি এই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

৫ মে, রবিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আইনজীবী পলাশ কুমার রায়ের মা মিরা রানি রায় তার ছেলে পলাশকে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন এবং অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর খবর না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় পলাশের মা সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। মৃত্যুর আগে পলাশ তার মায়ের কাছে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ করে গেছেন। তাই উক্ত হত্যার অভিযোগে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি এবং ঘটনার সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের যোগসাজস আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।‘

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুনু, মহাসচিব হেমায়েত উদ্দিন বাদশা, ইয়ুথ ফোরামের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম মনির প্রমুখ।

এর আগে গত ২৫ মার্চ দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে তার (পলাশ) বিরুদ্ধে কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের করা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে পরিবারের লোকজন নিয়ে অনশন শুরু করেন পলাশ কুমার রায়। পরে সেখান থেকে উঠে তারা জেলা শহরের শের-ই-বাংলা পার্ক সংলগ্ন মহাসড়কে এসে মানববন্ধন শুরু করেন।

ওইদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করার অভিযোগ এনে স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব রানা পলাশের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। পরে পলাশকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আইনজীবী পলাশকে গত ২৬ এপ্রিল বিকেলে ঢাকা পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সকালে হঠাৎ কারাগার হাসপাতালের বাইরে থাকা একটি টয়লেট থেকে সে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দৌঁড়ে বের হয়। এ সময় কারারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করে এবং শরীরের আগুন নেভায়। আগুনে তার শরীরের ৪৭ শতাংশ পুড়ে যায়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল