প্রতীকী ছবি

ডিবিবিএলসহ সাইবার হামলার শিকার দেশের তিন ব্যাংক

ডিবিবিএলের সার্ভারে সাইপ্রাসে এমন লেনদেনের কোনো প্রমাণ না থাকায় প্রাথমিক অবস্থায় ব্যাংকটি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ভিসা কর্তৃপক্ষ প্রমাণ দিলে টাকা দিতে বাধ্য হয় ডাচ বাংলা ব্যাংক।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২২ জুন ২০১৯, ১৫:৪১ আপডেট: ২২ জুন ২০১৯, ১৬:০২
প্রকাশিত: ২২ জুন ২০১৯, ১৫:৪১ আপডেট: ২২ জুন ২০১৯, ১৬:০২


প্রতীকী ছবি

(প্রিয়.কম) দেশের ব্যাংকিং খাতে সাইবার হামলার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। গত মাসেই ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডসহ (ডিবিবিএল) আরও দুইটি ব্যাংক সাইবার হামলার শিকার হয়েছে।

২২ জুন, শনিবার ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাইবার হামলার শিকার হয়ে গত মাসে ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রায় ২৫ কোটি টাকা হারিয়েছে।

সাম্প্রতিক এই হামলার শিকারের তালিকায় রয়েছে এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংকও। তবে এই দুই ব্যাংক দাবি করেছে সাম্প্রতিক হামলায় তাদের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্বের ঘটনাগুলো থেকে সাম্প্রতিক হ্যাকারদের হামলার ঘটনা কিছুটা ভিন্ন হওয়ায় দেশের ব্যাংকিংখাতে এ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

কারণ হিসেবে জানা গেছে, হ্যাকাররা সাধারণত ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে ব্যাংকের সার্ভার থেকে গ্রাহকদের তথ্য চুরি করতো। এরপর এসব তথ্য ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নিতো।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডিবিবিএলের ঘটনা নাড়া দিয়েছে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরকে। হ্যাকাররা তিনমাস আগে ডিবিবিএলের কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করায়। এই ম্যালওয়্যারটি ব্যাংকের কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মতো হুবহু আরেকটি সফটওয়্যার তৈরি করে। যা ব্যাংক ধরতেই পারেনি।

পরবর্তীতে হ্যাকাররা ১-৩ মে সাইপ্রাস, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের এটিএম মেশিন থেকে প্রায় ২৫ কোটি টাকা (৩ মিলিয়ন ডলার) উত্তোলন করে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে এসব অর্থ উত্তোলন করা হয়।

এতোদিন পর্যন্ত ঘটনাগুলো ডাচ বাংলা ব্যাংকের কাছে অধরাই ছিল। বিষয়টি সামনে আসে যখন, গ্লোবাল পেমেন্ট সল্যুশন ভিসা ব্যাংকটির কাছে টাকা দাবি করে।

ডিবিবিএলের সার্ভারে সাইপ্রাসে এমন লেনদেনের কোনো প্রমাণ না থাকায় প্রাথমিক অবস্থায় ব্যাংকটি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ভিসা কর্তৃপক্ষ প্রমাণ দিলে টাকা দিতে বাধ্য হয় ডাচ বাংলা ব্যাংক।

সাইবার হামলার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি ডিবিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম।

অপরদিকে এনসিসি এবং প্রাইম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। উভয়ই জানিয়েছেন, হ্যাকাররা এই দুই ব্যাংকে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল, তবে তারা (হ্যাকাররা) ব্যর্থ হয়েছে। এতে কোনো ক্ষতি হয়নি তাদের।

তবে ডেইলি স্টার পরিচয় গোপন রেখে দুই সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, এইসব ঘটনায় উভয় ব্যাংকই টাকা হারিয়েছে। তবে অংকের পরিমাণ বেশি না।

গত মাসের এসব ঘটনায় আট সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া এসব ঘটনায় তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর সদস্যরা।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল