দুদকের সামনে সাংবাদিকদের মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

গণমাধ্যমকে দুদকের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা: আবু জাফর সূর্য

‘সুশাসন ও গণমাধ্যম মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। রিপোর্টে যদি আপনার আপত্তি থাকে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিবাদ জানাতে পারেন। কিন্তু আপনারা সাংবাদিককে হুমকি দিতে পারেন না।’

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০১৯, ১৬:৪৯ আপডেট: ৩০ জুন ২০১৯, ১৬:৪৯
প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০১৯, ১৬:৪৯ আপডেট: ৩০ জুন ২০১৯, ১৬:৪৯


দুদকের সামনে সাংবাদিকদের মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম)  ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সভাপতি আবু জাফর সূর্য বলেছেন, ‘একজন পরিচালক অত্যন্ত সচেতনভাবে গণমাধ্যমকে দুদকের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন।’

৩০ জুন, রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ের সামনে এক কর্মসূচিতে এমন কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দুদকের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন। আপনারা নিজেরা পরিশুদ্ধ হোন, নইলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে। শিগগির চিঠির আপত্তিকর শব্দগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। সুশাসন ও গণমাধ্যম মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। রিপোর্টে যদি আপনার আপত্তি থাকে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিবাদ জানাতে পারেন। কিন্তু আপনারা সাংবাদিককে হুমকি দিতে পারেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকদের স্বার্থরক্ষায় যত কঠিন কর্মসূচি দিতে হয়, দেওয়া হবে। আমরা আশা করবো, যতো দ্রুত সম্ভব এ আগুন নেভানোর চেষ্টা করবেন।’

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাধারণ সম্পাদক দীপু সারোয়ার এবং প্রশিক্ষণ ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক ইমরান হোসেন সুমনকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ‘আপত্তিকর চিঠি’র প্রতিবাদে এমন কর্মসূচির আয়োজন করে সাংবাদিকরা।

ক্র্যাবের সভাপতি আবুল খায়ের বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাছে সহযোগিতা চাওয়ার এটি কোনো নমুনা হতে পারে না। সাক্ষী না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি? তার মানে কী? এ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একটি সরকারবিরোধী গ্রুপ আছে। যারা সরকারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের মুখোমুখি করার পাঁয়তারা করছে। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন করে আপত্তিকর চিঠি প্রত্যাহারে বাধ্য করা হবে।’

দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে গত ২৩ জুন ‘লন্ডন প্রবাসী দয়াছের অডিও সংলাপে দুদকের ওরা কারা?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয় অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে। একই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রচার করে এটিএন নিউজও।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ প্রতিনিধি দীপু সারোয়ারকে ডেকে গত মঙ্গলবার (২৫ জুন) চিঠি দেন তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মো. ফানাফিল্যা। এটিএন নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার ইমরান হোসেন সুমনকেও তিনি একই কারণে চিঠি দেন।

দীপুকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, ‘উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আগামী ২৬/০৬/২০১৯ খ্রি. তারিখ ১০.৩০ ঘটিকায় নিম্নস্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় আইনানুগ কার্যধারা গৃহীত হবে।’ সুমনকে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হলেও ‘অন্যথায় আইনানুগ কার্যধারা গৃহীত হবে’ মর্মে কিছু লেখা হয়নি।

দীপুকে দেওয়া চিঠিতে ‘অন্যথায় আইনানুগ কার্যধারা গৃহীত হবে’ উল্লেখ করার পর গণমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে শেখ মো. ফানাফিল্যাকে কারণ দর্শানোর (শো’কজ) নোটিশ দেয় কমিশন। কিন্তু সেখানে ‘ফরম্যাট না মেনে’ দুই সাংবাদিককে দুই রকম চিঠি দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়, ‘ইমরান হোসেন সুমন বরাবর প্রেরিতে নোটিশে ‘অন্যথায় আইনানুগ কার্যধারা গৃহীত হবে’ মর্মে উল্লেখ করেননি, যা অনুসন্ধান সংক্রান্ত প্রচলিত নোটিশের ফরম্যাট বহির্ভূত।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে আরও বেশি উদ্বেগের কথা জানাচ্ছেন সাংবাদিকরা।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল