প্রতীকী ছবি

উবারে বাড়তি টাকার ‘ফাঁদ’!

উবারের এমন কাণ্ড হরহামেশাই ঘটছে। কেউ তা জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে, আবার কেউ এই প্ল্যাটফর্মটি ছেড়ে বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিয়.কম
প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০১৯, ১৫:২৮ আপডেট: ০১ জুলাই ২০১৯, ১৫:৩৪
প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০১৯, ১৫:২৮ আপডেট: ০১ জুলাই ২০১৯, ১৫:৩৪


প্রতীকী ছবি

(প্রিয়.কম) যাত্রা শুরুর আগে দেখানো হয় এক ভাড়া। পথে কোনো যানজট ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ভাড়া আসে আরও বেশি। অনেক সময় পকেটে বাড়তি অর্থ না থাকলে যাত্রীদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায়।

আবার অ্যাপের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানালে কেটে নেওয়া বাড়তি অর্থ যোগ হয় অ্যাপে। ওই অর্থ অ্যাপ ব্যবহার করা ছাড়া নগদ উত্তোলনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এভাবে বাড়তি ভাড়ার ফাঁদ পেতে দেশে ব্যবসা করছে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবার, বেশ কয়েকজন উবার ব্যবহারকারী এমন অভিযোগ করেছেন। 

কেস স্টাডি ১

রক্তিম মাহমুদ নামের এক উবার ব্যবহারকারী ২৪ জুন ধানমন্ডি থেকে মিরপুরে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রা শুরুর আগে অ্যাপে ভাড়া দেখায় ১৬৮ টাকা। যাত্রা শেষে ভাড়া আসে ৩৮৯ টাকা। পকেটে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাকে। পরে ফোন করে আরেকজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হয় রক্তিমকে।

তিনি জানান, অ্যাপের ম্যাধ্যমে বাড়তি অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ জানালে উবার কর্তৃপক্ষ বাড়তি অর্থ তার উবার অ্যাকাউন্টে যোগ করে দেয়। ওই বাড়তি অর্থ খরচের জন্য তাকে ফের উবার ব্যবহার করতে হয়েছে।

তার দাবি, উবার দেশীয় রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের মতো না করে (পাঠাও বাড়তি অর্থ কেটে নিলে তা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে পরিশোধ করে) বাড়তি অর্থ কেটে নিয়ে ফের উবার ব্যবহার করতে বাধ্য করেছে।

কেস স্টাডি ২

ইরতিজা নামে অপর এক উবার ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অভিযোগ করে জানিয়েছেন, তার কাছ থেকে উবার দুইবার বাড়তি অর্থ কেটে নিয়েছে। একবার ২৮০টাকা, অন্যবার ১২০টাকা।

তিনি লিখেছেন, ‘অফলাইন সিএনজি রাইড আর অনলাইন রাইড শেয়ারিংয়ের মধ্যে আর পার্থক্য কি থাকলো যদি দুই ক্ষেত্রেই ভাড়া নিয়ে ড্রাইভারের সাথে ঝামেলা করা লাগে? এ কেমন হয়রানি? কর্তৃপক্ষকে বলতে চাচ্ছি যে আপনারা কি এগুলার সমাধান আদৌ বের করার চেষ্টা করবেন? নাকি চান দৈনিক এভাবেই গ্রাহক হাত ছাড়া হউক?’

কেস স্টাডি ৩

সুসান মহসিন নামে অপর এক উবার ব্যবহারকারী ফেসবুকে জানিয়েছেন, ধানমন্ডি থেকে কমলাপুর যাওয়ার সময় এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাকে। যাত্রা শুরুর আগে তার ভাড়া দেখিয়েছিল ৮১ টাকা এবং যাত্রা শেষে তাকে গুণতে হয় ৩৩৪ টাকা। বাড়তি অর্থ কিভাবে তিনি পেতে পারেন তা জানতে চেয়ে পোস্ট দিয়েছেন।

উবারের এমন কাণ্ড হরহামেশাই ঘটছে। কেউ তা জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে, আবার কেউ এই প্ল্যাটফর্মটি ছেড়ে বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন।

বিষয়টির প্রত্যক্ষ প্রমাণের জন্য এই প্রতিবেদক ১০ জন উবার ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথা বলেন। এর মধ্যে ৬ জন জানিয়েছেন তারাও এইরকম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, হচ্ছেন।

তাদের দাবি, ‘ভুলক্রমে’ বাড়তি অর্থ কাটা যেতেই পারে। তবে অভিযোগ জানালে সেই অর্থ ফেরত (ডিজিটাল বা নগদ অর্থ) না দিয়ে তা উবার ব্যবহার করে ব্যয় করতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিষয়টিকে উবারের ফাঁদ মনে করছেন এই ব্যবহারকারীরা।

বিষয়টিকে কিভাবে দেখছে উবার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস এবং ভুক্তভোগীদের এমন অভিযোগের বিষয়টি জানাতে এবং এর প্রতিকারের বিষয়ে জানতে ২৪ জুন মেইলে উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রিয়.কম।

উবার কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন করা হয়, অভিযোগের বিষয়গুলোকে কিভাবে দেখছে উবার? উবার কি মনে করছে না ব্যবহারকারীকে জোর করে অ্যাপ চালানোর জন্য এ ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া দেখাচ্ছে উবার কর্তৃপক্ষ, যাতে ব্যবহারকারী জমা হওয়া ক্রেডিট ব্যয় করতে অ্যাপ চালাতে বাধ্য হয়? এমন গ্রাহক ভোগান্তির বিষয়ে উবার কি ভাবছে?

১ জুলাই এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মেইলের জবাব দেয়নি উবার।

প্রিয় প্রযুক্তি/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...