ঢাকা ওয়াসা। ফাইল ছবি

ওয়াসার ‘সুপেয়’ পানিতে কী নেই?

ঢাকার কিছু কিছু এলাকার পানিতে মল ও ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পাওয়ার ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেটি জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৪ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৪
প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৪ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৪


ঢাকা ওয়াসা। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) রাজধানীবাসীর নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা ওয়াসার কাজ নিয়ে দিন দিন প্রশ্ন বাড়ছে। নোংরা পানি, পানির সংকট, পয়ঃনিষ্কাশনে অব্যবস্থাপনাসহ ওয়াসার বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানতে চেয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পানিতে ব্যাকটেরিয়া ও মল পাওয়ার ঘটনায় কী ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়াসা?

হাইকোর্টের গঠিত তদন্ত কমিটির দেওয়া এক প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওয়াসার কাছে সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চেয়েছে আদালত।

৭ জুলাই, রবিবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টে বেঞ্চ এমন আদেশ দেয়। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এদিকে ওয়াসার পক্ষ থেকে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রিটকারী আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ।

২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ অনিরাপদ উৎসের পানি পান করে। ৪১ শতাংশ পানির নিরাপদ উৎসগুলোতে রয়েছে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। ১৩ শতাংশ পানিতে রয়েছে আর্সেনিক। পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা পানিতে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৮২ শতাংশ। পরে পত্রিকায়ও এসব তথ্য প্রকাশিত হয়।

প্রকাশিত সেইসব প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ।

তানভীর আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত আটটি নমুনার পানিতে দূষণের তথ্য প্রতিবেদন আকারে দাখিল করা হয়। এসব এলাকার পানিতে ব্যাকটেরিয়া ও উচ্চ মাত্রার অ্যামোনিয়া পাওয়া গেছে এবং কিছু কিছু নমুনাতে মলের অস্তিত্বও পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা আদালতকে দুই সপ্তাহের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াসার ১০টি মডস জোনের মধ্যে চারটি জোন এবং সায়েদাবাদ ও চাঁদনীঘাট এলাকা থেকে সংগৃহীত ৮টি নমুনা পানিতে দূষণ পেয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটি। এইসব এলাকার পানিতে ব্যাকটেরিয়া, উচ্চ মাত্রার অ্যামোনিয়া পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কিছু কিছু নমুনাতে মলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

গত বছর ৬ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া এক নির্দেশে ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইসিডিডিআরবির প্রতিনিধির সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে ২১ মে পানি পরীক্ষার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

আদেশে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার পানির উৎস, ১০টি বিতরণ জোন, গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০টি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে। এরপর ৩৪টি স্থান থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে তা আইসিডিডিআরবি, বুয়েট ও ঢাবির অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৮টি নমুনাতে দূষণ পেয়েছে কমিটি।

১৭ এপ্রিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গবেষণা উপস্থাপন করে জানায়, ঢাকা ওয়াসার পানির নিম্নমানের কারণে ৯৩ শতাংশ গ্রাহক বিভিন্ন পদ্ধতিতে পানি পানের উপযোগী করেন। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে পান করেন।

টিআইবির এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান বলেন, ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়। তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে রাজধানীর কয়েক এলাকার বাসিন্দারা তাকে শরবত পান করাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু  এমডি তাদের সঙ্গে দেখা করেননি শরবতও পান করেননি।