গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: পিআইডি

উন্নয়ন চাইলে গ্যাসের বর্ধিত দাম মেনে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যিই (দেশের) অর্থনৈতিক উন্নয়ন চান, এটা (গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি) গ্রহণ করতে হবে।’

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০১৯, ২১:২৭ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০১৯, ২২:৪৬
প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০১৯, ২১:২৭ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০১৯, ২২:৪৬


গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: পিআইডি

(প্রিয়.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি চাইলে আন্দোলন না করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি মেনে নিতেই হবে।

সদ্য চীন সফর শেষে ৮ জুলাই, সোমবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যিই (দেশের) অর্থনৈতিক উন্নয়ন চান, এটা (গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি) গ্রহণ করতে হবে।’

বাংলাদেশ এখন ৮.১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালানিতে আমরা পর্যাপ্ত মনযোগ দিয়েছি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। সেই সাথে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়িয়েছি।’

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য জ্বালানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে, কিন্তু এলএনজি আমদানি ব্যয় অনেক।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি ঘন মিটার এলএনজি আমদানিতে ৬১.১২ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু ব্যাপক ভর্তুকি দিয়ে তা প্রতি ঘন মিটার মাত্র ৯.৮ টাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পরও ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।’

দুটি পথ খোলা রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি না বাড়িয়ে এলএনজি আমদানি কমিয়ে দেওয়া অথবা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মূল্যবৃদ্ধি গ্রহণ করে নেওয়া।’

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে গ্যাসের মূল্যের তুলনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের চেয়ে গ্যাসের মূল্য এখানে অনেক কম। ভারতে বছরে দু’বার গ্যাসের মূল্য এডজাস্ট (সমন্বয়) করা হয়। প্রথমবার এপ্রিলে পরে অক্টোবরে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতে প্রতি ঘন মিটার গ্যাসের দাম গৃহস্থালীতে স্থানভেদে ৩০ থেকে ৩৭ টাকা, আর বাংলাদেশে মাত্র ১২.৬০ টাকা।

শিল্পে বাংলাদেশে প্রতি ঘন মিটার গ্যাসের মূল্য ১০.৭০ টাকা। আর ভারতে তা ৪০ থেকে ৪২ টাকা, সিএনজিতে বাংলাদেশে প্রতি ঘন মিটার গ্যাস ৪৩ টাকা, ভারতে ৪৪ টাকা। বাণিজ্যে বাংলাদেশে ২৩ টাকা আর ভারতে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাম-ডান সব একই কথা বলছে। তারা ভুলে গেছে ৮-৯ বছর আগে কি অবস্থা ছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৪-০৫ সালে ভারত বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে গ্যাস নিতে চেয়েছিল, কিন্তু খালেদা সরকার তা করতে দেয়নি।’

তবে তিনি (শেখ হাসিনা) ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশের ভাগ নিশ্চিত করে ভারতকে অনুমতি দিতেন, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি তখন সেই ভাগ নিত এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবহার করত, তাহলে এলএনজি আমদানির প্রয়োজন হত না।’

আমরা রাখাইন চাই না

রাখাইনকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসম্যানের প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার নিয়েই খুশি। মিয়ানমার তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকবে। আমরা আমাদেরটা নিয়ে থাকবো। আমরা রাখাইন চাই না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। রাখাইন মিয়ানমারের অংশ। আমরা এটা চাই না। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে রাখাইনকে জুড়ে দিতে চায় কেন? কোনো বড় দেশের কংগ্রেসম্যান হয়তো ভুলে গেছেন তাদের অতীত। তাদের দেশে গৃহযুদ্ধ লেগেই থাকতো। রাখাইনে সারাক্ষণ গোলযোগ লেগেই থাকে। আমরা গোলযোগপূর্ণ অংশ কেন নেবো? এটা কোনোদিনই করবো না। এটা আমরা চাই না।’

টাইগারদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ জেতা এক একটি নামিদামি দলের সঙ্গে খেলা কিন্তু কম কথা নয়। বাংলাদেশের পারফরম্যান্স কিন্তু বিশ্বকাপে চমৎকার ছিল। ও হ্যাঁ, আমরা যে বিশ্বকাপে খেলতে পেরেছি বা এতদূর যেতে পেরেছি সেটাও কিন্তু কম কথা নয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের যারা খেলোয়াড়, সাকিব আল হাসান এবং মুস্তাফিজুর রহমান বিশ্বে একটা স্থান করে নিয়েছে। আমি দোষ দেব না। কারণ খেলা এমন একটা জিনিস। এখানে ভাগ্যও কিন্তু লাগে।’

তিনি বলেন, ‘সবসময় কিন্তু এক রকম হবে তা না। তারা যে সাহসী মনোভাব নিয়ে মোকাবিলা করেছে, এজন্য আমি তাদের প্রশংসা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপে ১০টি দল খেলল, সবাই যে সেমিফাইনালে খেলবে তা কিন্তু নয়, চারটি দল সেমিতে গেছে। তার মানে বাকি (ছয়টি) দল যারা বাদ পড়েছে, তারা সবাই খারাপ খেলেছে; সেটাই বলবেন? তাহলে আপনারা আপনাদের নিজেদেরকেই ছোট করছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিজেদের এত খারাপ বলি কেন? বরং এক একটা জাঁদরেল জাঁদরেল, দীর্ঘদিন যারা খেলে খেলে অভিজ্ঞ তাদের সঙ্গে আমাদের ছেলেরা যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেছে, সেজন্য তাদের প্রশংসা করতে হবে।’

ধর্ষণ রোধে পুরুষদের সোচ্চার হতে হবে

ধর্ষণ প্রতিরোধে পুরুষদের সোচ্চার হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, কেবল নারীরাই চিৎকার করে যাবে নাকি? এ ব্যাপারে পুরুষদেরও সোচ্চার হওয়া উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ধর্ষণ প্রতিরোধে যা যা করার দরকার বা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার হলে সরকার তা–ই করবে।’

ধর্ষকদের শাস্তি দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন পাশে থাকবে

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‌‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন চেষ্টা করবে। চীন নিজেকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়ের বন্ধু বলে উল্লেখ করে দেশটির রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং বলেছেন, তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে সম্মত করতে চেষ্টা করবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেন। রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। চীন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুবার মিয়ানমারে পাঠিয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে তারা আবারও মন্ত্রীকে মিয়ানমারে পাঠাবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করি। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে এ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হাতে পারে বলে আমি উল্লেখ করি।’

গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

চীন সফর দু’দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীন- দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেছেন, আমরা পরস্পরের সত্যিকারের বন্ধু হয়ে থাকব। আমরা দুই প্রতিবেশী দেশ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছি।’

‘তার দেশ সবসময় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টার পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একইসঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একমত হন’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা জানান, তার এবারের চীন সফরে দ্বিপাক্ষিক বিষয় ছাড়াও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী লি খোচাং, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ‘এসব আলোচনার সময় সকল নেতাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন এবং এই সমস্যা সমাধানে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।’

নেতৃত্বে ভুল করলে জনগণকে খেসারত দিতে হয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২০০৪-০৫ সালে মিয়ানমারের গ্যাস নিতে ভারত, চীন ও জাপান বিনিয়োগ করেছিল। সেই গ্যাস বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পাইপলাইন বসিয়ে ভারত নিতে চেয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া সেটা হতে দেয়নি। আমি হলে ভারতে গ্যাস নিতে তো দিতাম-ই, আমার ভাগটাও রেখে দিতাম। আসলে নেতৃত্বের ভুল হলে এর খেসারত জনগণকে দিতে হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি করতে পারলে এই মুহূর্তে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আনতে হতো না। গ্যাসের দামও বাড়তো না, কিন্তু বিএনপির কারণে তা সম্ভব হয়নি।’

চাকরির বয়স ৩৫ না করার পক্ষে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি চাকরিতে প্রবেশে ৩৫ বছর বয়স-সীমা না করার পক্ষে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘কাজ করার একটা সময় থাকে। একটা এনার্জি থাকে।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন জন্ম নিবন্ধন করা হয়, বয়স লুকানো যায় না। আমরা যদি ধরেই নিই, একজন ছেলে বা মেয়ে যদি নিয়মিত পড়াশোনা করে, যদি একটু দেরিও হয়, তাহলেও ১৬ বছরে এসএসসি পাস করে। করে না? এরপর দুই বছর পর অর্থাৎ ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে। এরপর অনার্স ৪ বছর, মাস্টার্স ১ বছর। ২৩ বছরের মধ্যে মাস্টার্স কমপ্লিট হয়ে যায়। এরপরই সরকারি চাকরির জন্য পরীক্ষা দিতে পারে। এরপরও যদি এক-দুই বছর দেরিও হয়, তাহলেও ২৪/২৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।’

৩৫ তম বিসিএসের ফল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে যারা বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, তাদের পাসের হার হলো ৪০ দশমিক ৭ ভাগ, ২৫ থেকে ২৭ বছর যাদের বয়স, তাদের পাসের হার হলো ৩০ দশমিক ২৯ ভাগ। আর ২৭ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের পাসের হার হলো ১৩ দশমিক ১৭। ২৯ বছরের বেশি বয়সীদের পাসের হার ৩ দশমিক ৪৫ ভাগ।’

৩৬ তম বিসিএসের ফল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের পাসের হার ৩৭ দশমিক ৪৫ ভাগ। ২৫ থেকে ২৭ বছর বয়সীদের পাসের হার ৩৪ দশমিক ৭৮ ভাগ। ২৭ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের পাসের হার ১৪ দশমিক ৮৯ ভাগ। ২৯ বছরের বেশি বয়সীদের পাসের হার ৩ দশমিক ২৩ ভাগ।’

৩৭ তম বিএসএসের ফল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ৬৫ ভাগ। ২৫ থেকে ২৭ বছর বয়সীদের পাসের হার ২৩ দশমিক ৩৫ ভাগ। ২৭ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের পাসের হার ৭ দশমিক ২০ ভাগ। ২৯ বছরের বেশি বয়সীদের পাসের হার শূন্য (০) দশমিক ৬১ ভাগ।’

বিসিএসের তিন পর্বের ফল বিশ্লেষণ করে শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, ‘কোনটা গ্রহণ করবো এখন বলুন। আমি আর কিছু বলতে চাই না, আমি কেবল হিসাবটা দিলাম। চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ পর্যন্ত করলে অবস্থাটা কী দাঁড়াবে, আমাকে একটু বুঝিয়ে বলুন। কারণ তখন তো বিয়েশাদি হবে, ছেলে-মেয়ে হবে, ঘর সামলাতে হবে, বউ সামলাতে হবে আর বই কিনতে হবে। তখন তো আরও করুণ অবস্থা হয়ে যাবে। কাজ করার একটা সময় থাকে। একটা এনার্জি থাকে। এই যে একটা দাবি তোলা, এখন দাবি তোলার জন্য যদি দাবি তোলা হয়, আমার কিছু বলার নেই। এই দাবি তোলার জন্য কোনো না কোনো জায়গা থেকে নিশ্চয় কোনো প্রেরণা পাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৩৫ বছর বয়সে পরীক্ষা দিলে এর রেজাল্ট, ট্রেনিং, ট্রেনিং শেষ হতে যদি আরও দুই বছর লাগে, তাহলে ৩৭ বছর গেলো। ৩৭ বছরে চাকরি হলে কী হবে? চাকরির বয়স কিন্তু ২৫ বছর না হলে ফুল পেনশন পাবে না। ঠিক আছে, পেনশন না পেলো। তাহলে একটা সরকার কাদের দিয়ে চালাবো? আমরা সবসময় বলি, যারা মেধাবী, তরুণ, কর্মক্ষম তাদের দিয়েই তো আমাদের দেশের উন্নয়ন কাজ করবো। কিন্তু বয়স বাড়লে তো কাজের গতিও কমে। এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। যাই হোক, আমি শুধু হিসাবটাই দিলাম, দেশবাসী বিচার করুক, আপনারও বিচার করুন।’

পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে একটি প্রস্তাব এসেছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঠিক এই বিষয়গুলো তখন বিবেচনায় নেওয়া হয়। কারণ পার্লামেন্টে কণ্ঠভোটে পাস হলে কী হবে? তারা আন্দোলন করেই যাবে? ভালো কথা আন্দোলন করুক, আমি তো আন্দোলনে বাধা দেবো না। আন্দোলন তো ভালো জিনিস। আন্দোলন করলে অন্তত রাজনীতিটা শিখবে ভালো করে। তবে যদি কারও প্ররোচনায় আন্দোলন করে থাকে, তাহলে কী হবে, সেটা বুঝতেই পারেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক সময় ছিল প্রাচ্যের অক্সফোর্ড, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময় ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু ৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যার পর আমরা কী দেখেছি? একটা শ্রেণি নেমে গেলো অস্ত্র হাতে। গুলি-বোমা-অস্ত্রের ঝনঝনানি ছাড়া আর কিছুই শোনা যেতো না। সেশনজট তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। আমরা আসার পর ধীরে ধীরে সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছি।’

উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড ইকোনামিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) অংশ নিতে এবং চীনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খোচাং-এর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ জুলাই থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত চীন সফর করেন। অটিজম অ্যান্ড নিউরো-ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডারস-এর জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো.শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিসহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল তার সফরসঙ্গী ছিলেন। এ ছাড়া, একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে যান। সফর শেষে গত শনিবার (৬ জুলাই) তিনি দেশে ফেরেন।

গণভবনে আজ (৮ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল/রুহুল