রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করে একদিকে কিক্রেট খেলছেন রিকশাচালকেরা অপরদিকে ভোগান্তির শিকার বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। ছবি: সংগৃহীত

সড়ক অবরোধ করে ক্রিকেট খেলায় ব্যস্ত তারা

সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের পাশাপাশি ক্রিকেট খেলছেন রিকশাচালকেরা। দাবি আদায়ে মানববন্ধন করছেন রিকশা শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৯:০০ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৯:২৯
প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৯:০০ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৯:২৯


রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করে একদিকে কিক্রেট খেলছেন রিকশাচালকেরা অপরদিকে ভোগান্তির শিকার বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমেছেন রিকশাচালকেরা আর ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী সাধারণ পথচারীরা। এই ভোগান্তির জন্য কে দায়ী? সাধারণ পথচারী, রিকশাচালক নাকি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ? সেটি নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত। তবে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান চান ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কুড়িল-রামপুরা-মালিবাগ সড়কের বিভিন্ন অংশে এমন দৃশ্য দেখা যায়। একদিকে ভোগান্তির শিকার হয়ে হাসফাস করছেন সাধারণ পথচারী অপরদিকে সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ক্রিকেট খেলছেন রিকশাচালকরা।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনর মেয়র সাঈদ খোকন রিকশাচালকদের চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নগর ভবনে। তিনি আশা করছেন উভয় পক্ষের কথা বলার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রিকশাচালকেরা সড়ক থেকে তাদের অবরোধ তুলে নিয়েছেন।

রিকশাচালকদেরএই বিক্ষোভে প্রায় পুরো রাজধানীজুড়ে স্থবিরতা দেখা দেয়। থেমে থেমে কিছু বাস চলাচল করলেও বেশিরভাগ বাসে যাত্রীসংখ্যা খুব কম। সকাল থেকেই গাজীপুর থেকে আসা যানবাহনগুলোর সায়েদাবাদ হয়ে চিটাগাং রোড পর্যন্ত চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। আশেপাশের সড়কগুলোতেও সৃষ্টি হয়েছে অসহনীয় যানজট। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনেকেই গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটেই কর্মস্থলের দিকে ছুটছেন। দাবি আদায়ে রিকশা চালকরা বলছেন সড়ক আছে যেখানে, রিকশা চলবে সেখানে, চলবে চলবে-রিকশা চলবে, আমাদের দাবি মানতে হবে, না মানলে আন্দোলন চলবে। রামপুরার আবুল হোটেলের সামনের চিত্র ছিলো এটি।  

এদিকে মুগদায় কমলাপুর স্টেডিয়ামের সামনে মানববন্ধন করছে রিকশা চালক-মালিকদের বিভিন্ন সংগঠন। এ সময় রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সীমিত আকারে কিছু যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হয়।

দাবি আদায়ে মানববন্ধন করছেন রিকশা শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর আরেক জায়গায় দেখা গেছে রাস্তা অবরোধ করে ক্রিকেট খেলছেন রিকশাচালকরা।

একইভাবে রামপুরা বাজার, খিলগাঁও, রামপুরা ব্রিজ, উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা এবং কুড়িল এলাকায়ও অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এতে করে এসব এলাকায় সড়কে থাকা যানবাহনগুলো আটকা পড়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ।

বিশ্বরোড থেকে রামপুরা যাওয়ার সড়কে সকাল থেকে দেখা দেয় তীব্র যানজট। যানবাহনের সারি পড়ে আছে সড়কের দুদিকে। গরমে দীর্ঘক্ষণ বসে থেকেও গন্তব্যে যেতে পারছেন না নগরবাসী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে পথ ফুরোচ্ছে না। চরম দুর্ভোগে পড়ে অনেকে উপায়ান্তর না পেয়ে বাস থেকে নেমে যাচ্ছেন।

আব্দুর রহিম নামের একজন চাকরিজীবী বলেন, ‘বিশ্বরোড থেকে নতুনবাজার আসতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। বাস যেন এগোচ্ছেই না। দুই মিনিট চললে ২০ মিনিট যানজটে আটকে থাকে।’

রাহাত নামের এক যাত্রী বলেন, ‘সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যাবো। প্রায় আধা ঘণ্টা বাসে বসে থাকার পর হেঁটেই গন্তব্যের দিকে রওয়ানা দিচ্ছি। যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ থেকে উত্তরার রুটে চলাচলকারী একটি বাসের চালক কবির বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে সড়কে বাস নিয়ে আটকে আছি। যাত্রীরা সবাই নেমে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘সড়কে রিকশা থাকলে আমাদের আসলেই বাস চালাতে সমস্যা হয়, রিকশাগুলো সড়কের শৃঙ্খলা নষ্ট করে। মূল সড়কে রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত ভালো বলে আমরা মনে করি। কিন্তু তারা আন্দোলনে নেমে পুরো সড়ক বন্ধ করে রেখেছে। ফলে সাধারণ মানুষসহ আমাদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

তবে রিকশাচালকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি তারা গরীব মানুষ। দিনমজুর। রিকশা না চালালে খাবেন কী। পরিবার  নিয়ে চলবেন কীভাবে।

মালিবাগে বিক্ষোভকারী শফি উদ্দিন নামের রিকশা চালক বলেন, ‘আমরা যারা রিকশা চালাই সবাই গরিব মানুষ। সরকার ঘোষণা দিয়েছে মেইন রোডে রিকশা চালানো যাবে না। কিন্তু এ ঘোষণা মানলে আমাদের না খেয়ে থাকা লাগবে। কারণ শুধু অলিগলি থেকে রিকশার ভাড়া পাওয়া যায় না।’

এ বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কুদ্দুছ ফকির সাংবাদিকদের বলেন, ‘সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আমরা চেষ্টা করছি। এ ছাড়া রিকশাচালকদের অবরোধ কর্মসূচিতে যেন অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটে সে বিষয়েও আমরা নজর রাখছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

গত ৩ জুলাই যানজট নিরসনে পৃথক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। গত রবিবার থেকে এই ঘোষণা কার্যকর হয়। যে তিন সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে সেগুলো হলো- গাবতলী থেকে মিরপুর রোড হয়ে আজিমপুর; সায়েন্সল্যাব থেকে শাহবাগ এবং কুড়িল থেকে বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও হয়ে সায়েদাবাদ।