টাঙ্গাইল-৪ আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা। ফাইল ছবি

রানার কারামুক্তিতে আইনি প্রক্রিয়ায় যা ছিল

কারামুক্তির আগে টাঙ্গাইল কারাগার গেটসহ এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে সকাল থেকেই তার কর্মী-সমর্থকরা কারাগারের গেটে ভিড় করতে থাকে।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০১৯, ২২:২৮ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৬
প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০১৯, ২২:২৮ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৬


টাঙ্গাইল-৪ আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) দুটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে প্রায় তিন বছর কারাগারে ছিলেন টাঙ্গাইল-৪ আসনের সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা। জজ কোর্ট, হাইকোর্ট পার করে সুপ্রিম কোর্টের জামিন আদেশের পর সকালে টাঙ্গাইল কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার সকালে তিনি কারাগার থেকে বের হয়েই ঢাকায় চলে আসেন। এরপর তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

মুক্তির আগে টাঙ্গাইল কারাগার গেটসহ এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে সকাল থেকেই তার কর্মী-সমর্থকরা কারাগার গেটে ভিড় করতে থাকে।

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের সুপার আবুল বাশার সাংবাদিকদের জানান, বেশ কয়েকদিন আগে থেকে সাবেক এমপি রানা টাঙ্গাইল কারাগারে ছিলেন। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের জামিন আদেশের কাগজপত্র পাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইলের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। সে সময় আদালত তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারামুক্তির পর ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সাবেক এই সাংসদ। ছবি: সংগৃহীত

যুবলীগের দুই কর্মী হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন

টাঙ্গাইলের যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় এই সাংসদকে গত ১৯ জুন স্থায়ী জামিন দেয় হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে হাইকোর্টের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী রুশো মোস্তাফা সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ৬ মার্চ যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় রানাকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে রুল জারি করেছিলো হাইকোর্ট। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই জামিন স্থগিত করে হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করার জন্য নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।’

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তাদের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে টাঙ্গাইল শহরে এসে নিখোঁজ হন। পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এক বছর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত করে পুলিশ ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে। ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার খন্দকার জাহিদ, শাহাদত হোসেন ও হিরণ মিয়া হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা সাংসদ আমানুরের দিকনির্দেশনায় যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় রানার জামিন আপিলে বহাল

গত ১ এপ্রিল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ মামলায় গত ১৪ মার্চ রানাকে ৬ মাসের জামিন দেয় হাইকোর্ট। ওই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেয়।

এর আগে কয়েক দফা চেষ্টার পর ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল ফারুক হত্যা মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন রানা। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে তা স্থগিত করে দেয় আপিল বিভাগ। এরপর ওই বছরের ১৯ অক্টোবর আপিল বিভাগ জামিনের এ স্থগিতাদেশ চলমান রেখে জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয়।

আদালতে সেই আদেশ অনুযায়ী চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। পরে নতুন করে বিচারিক আদালতে জামিন আবেদন করেন রানা। বিচারিক আদালতে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ফারুক হত্যা মামলায় এবং ৩০ সেপ্টেম্বর যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় রানার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। এরপর হাই কোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। ১৪ মার্চ ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় ছয় মাস করে জামিন পান রানা।

আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সে সময়ের এমপি রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠান টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালত।

এ মামলায় ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ওই বছর ৬ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৩০২, ১২০, ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তাদের বিচার শুরু করে আদালত। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল