ছবিঃ সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়িতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কৃষিঋণ বিতরণ

ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত অর্থ বিনিয়োগে নেওয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়াকড়ির ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে।

এম. রেজাউল করিম
প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০১৭, ২১:৩০ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:০০
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০১৭, ২১:৩০ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:০০


ছবিঃ সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে কৃষি খাতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তিন হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা বেশি ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো। ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত অর্থ বিনিয়োগে নেওয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়াকড়ির ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছর কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর জন্য ১৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়। অর্থবছর শেষে বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। এতে করে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিতরণ বেশি হয়েছে তিন হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। হার দাঁড়িয়েছে ১১৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি ৮ ব্যাংকের জন্য বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ৯ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা যা ১০৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ২৬০ কোটি টাকা থাকলেও বিতরণ হয়েছে ১১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। যার হার দাঁড়িয়েছে ১৩৬ দশমিক ৮১ শতাংশ।

যদিও সরকারি খাতের বিডিবিএল ৫০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ ঋণ দিয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের বিতরণ হয়েছে ৯৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। বাকি ৬ ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ দেওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি ইতিবাচক হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি মালিকানার ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এক টাকাও কৃষিঋণ দেয়নি। এ ছাড়া নতুন অনুমোদিত ফারমার্স ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। মধুমতি ব্যাংক বিতরণ করেছে ২২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ৭২ শতাংশ এবং ইউনিয়ন ব্যাংক বিতরণ করেছে ৩২ শতাংশ ঋণ। এ ছাড়া অন্য সব ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে।

এদিকে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি করে এবারে ১৯ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে এ ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে সাধারণ সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণের হার ১০ গুণ কমানো হচ্ছে।

জানা যায়, কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ার অন্যতম কারণ ব্যাংকগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণের অলস অর্থ। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে থাকা উদ্বৃত্ত অর্থের মধ্যে ২৫ হাজার কোটি টাকার মতো অলস রয়েছে। আর এই অর্থ বিনিয়োগে নিতে ঋণ বিকেন্দ্রীকরণের চেষ্টা করছে অধিকাংশ ব্যাংক। পাশাপাশি কৃষি খাতে একটি সময় ব্যাংকগুলো নিজেদের মতো করে ঋণ বিতরণ করত। তবে ২০১৩ সাল থেকে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত ২ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়। কোনো ব্যাংক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে অনার্জিত অংশ বাধ্যতামূলকভাবে বিনা সুদে একবছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখতে হচ্ছে।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


loading ...