কৃষ্ণা কুমারি কোহলি। ছবি: সংগৃহীত

আমি ধর্ম নিয়ে হত্যা বন্ধে কাজ করতে চাই: কৃষ্ণা কুমারি

১৮ বছরের আগেই শতকরা ৫ জন শিশুকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন তো আছেই। মানবাধিকার সংস্থার নিরীক্ষানুযায়ী প্রতি বছর হাজারের বেশি নারী ও শিশুকে জোড় পূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করান হয়।

মেহেরিনা কামাল মুন
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০১৮, ১৪:১৫ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৪৮
প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০১৮, ১৪:১৫ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৪৮


কৃষ্ণা কুমারি কোহলি। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বিশেষ করে সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্যে উচ্চ বর্ণ-নিম্ন বর্ণের বিবেদ মানা হয়। ‘ছোট জাত’ বলে অবহেলা করা হয় সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে। কিন্তু আনন্দের কথা হচ্ছে সেই ধারা ভেঙে অনেকেই নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন বিশ্বের সামনে। তেমন এক নারী কৃষ্ণা কুমারি কোহলি

তার বাস পাকিস্তানের মতো মুসলিম দেশে। যেখানে নারীদের উচ্চ পর্যায়ে দেখতে পাওয়াই অনেকটা বিরল সেখানে একজন সনাতন ধর্মালম্বী হয়েও নিজেকে প্রমাণ করেছেন কৃষ্ণা কুমারি। পাকিস্তানের প্রথম নারী সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি, যিনি নিম্ন বর্ণের দলিত জাতি থেকে এসেছেন।

মূলত হত্যা, অপহরণ রোধ ও বাল্য বিবাহ বন্ধে কাজ করেন তিনি। কৃষ্ণা কুমারি নিজেও মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাল্য বিবাহের শিকার হয়েছিলেন। আর এ কারণেই একটি মুসলিম দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে কাজ করতে চান।

নিজের কাজ সম্পর্কে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে কৃষ্ণা কুমারি বলেন, ‘কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি আমি সিনেটর হব। আমি যদি এই দুই জগতের (উচ্চ বর্ণ- নিম্ন বর্ণ) মধ্যে একটি ঘর তৈরি করতে পারি সেটাই হবে আমার সম্পদ। আমি ধর্ম নিয়ে হত্যা বন্ধে কাজ করতে চাই। আমাদের সমাজ থেকে এই লজ্জা সরাতে কাজ করবো।’

রবিবার সিনেটর হিসেবে নির্বাচির হওয়ার সাথে সাথেই একটি মাইলফলকও গড়ে ফেলেছেন কৃষ্ণা কুমারি। স্বাভাবিক নিয়মে নারীদের জন্য পাকিস্তান সংসদে পাঁচটি সংরক্ষিত আসন থাকে। তিনি প্রথম দিন সংসদে যোগ দিয়েই সংরক্ষিত আসন অস্বীকার করেন। যা এর আগে কখনোই কোনো নারী সিনেটর করেননি।

দলিত-কে সাধারণত একদমই নিম্ন বর্ণ হিসেবে মনে করা হয়। যাদের কোনো জিনিসই অন্য কেউ ছোঁয় না। ভয়াবহ বৈষম্যের শিকার এই বর্ণের মানুষ। সনাতন ধর্মেরই অন্য বর্ণের মানুষও তাদের সঙ্গে মেশে না। পাকিস্তানের বেশির ভাগ সনাতন ধর্মীরা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বাস করে। সেখানেই বাস করেন ৩৯ বছর বয়সী কৃষ্ণা কুমারি। যেখানে দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পেতে মেয়ে শিশুদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। ১৮ বছরের আগেই শতকরা ৫ জন শিশুকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এলাকাটিতে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন তো আছেই। মানবাধিকার সংস্থার নিরীক্ষানুযায়ী প্রতি বছর হাজারের বেশি নারী ও শিশুকে জোড় পূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো হয়।

কৃষ্ণা কুমারি বলেন, ‘আমাদের এখানে মানব হত্যা, জোর করে কাজ করানো, শিশুর অধিকার রক্ষা ও বাল্য বিবাহ বিষয়ে অনেক আইন আছে। কিন্তু খোলা চোখেই তার ব্যবহার নেই। সেগুলো ব্যবহারে বাধ্য করতে কাজ করতে চাই। সে জন্য আমার যা করতে হয় করব। আমি সে জন্য নিজেকে তৈরি করছি।’

তবে সমাজের সব পুরুষরাই অত্যাচারী এটা মানতে রাজি নন কৃষ্ণা কুমারি। ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে গেলেও তার স্বামী তাকে সব সময় উৎসাহ দিয়েছেন। সমাজ বিজ্ঞানে ডিগ্রি নেওয়ার পেছনে নিজের স্বামীর অবদান এক বাক্যে স্বীকার করেন তিনি।

প্রিয় সংবাদ/গোরা