রক্তধারা। ছবিঃ কালপুরুষ অপূ।

রক্তধারা!

রক্তধারা স্মৃতিসৌধটি একাত্তরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দুঃসহ স্মৃতি বহন করছে। বর্তমান প্রজন্মের জন্য এটি আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।

ড. জিনিয়া রহমান
লেখক
প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৪:৫৩ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৮:১৬
প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৪:৫৩ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৮:১৬


রক্তধারা। ছবিঃ কালপুরুষ অপূ।

(প্রিয়.কম) ভয়াল একাত্তরের শহীদ প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সারা দেশেই রয়েছে অনেক স্মৃতিসৌধ। সেই স্মৃতিসৌধের তালিকায় 'রক্তধারা'ও একটি নাম। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুর শহরের পশ্চিম প্রান্তে মেঘনা ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কয়েকটি নির্যাতন কেন্দ্র স্থাপন করে। নদীপথ বা  রেলপথে যারা চাঁদপুরে পৌঁছাতো, সন্দেহ হলে তাদেরকে এবং জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষদের এই টর্চার সেলে নিয়ে এসে অমানুষিক নির্যাতন করে হাত-পা বেঁধে জীবন্ত, অর্ধমৃত অথবা হত্যা করে মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর খরস্রোতে ফেলে দিতো। হানাদার বাহিনীর এদেশীয় দোসররা এ হত্যাযজ্ঞে সহযোগিতা করতো। পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরতার শিকার শহীদের স্মরণে ২০১১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তরুণ প্রজন্মের উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় 'রক্তধারা' নির্মিত হয় যাতে আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে। এ স্মৃতিসৌধটি উদ্বোধন করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রক্তধারা। ছবিঃ কালপুরুষ অপূ। 

রক্তধারা'র স্থপতি চঞ্চল কর্মকার। একটি স্তম্ভে তিনটি রক্তের ফোঁটার প্রতিকৃতি দিয়ে বোঝানো হয়েছে রক্তের ধারা। টেরাকোটার মুর‍্যালে আঁকা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ সহ, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলীর চিত্র। অসাধারণ এই ভাস্কর্যটি দেখে আসতে পারেন কোন এক ছুটির দিনে। 

কিভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে লঞ্চে বা বাসে করে চাঁদপুর যেতে পারেন। লঞ্চঘাট থেকে দূরত্ব মাত্র ৭৫০ মিটার, চাইলে হেঁটেই যেতে পারবেন রাস্তাটুকু। এছাড়া রিকশা বা অটোরিকশা তো আছেই, ঘাট থেকে ভাড়া নেবে জন প্রতি ১০ টাকা। চাঁদপুর জেলার প্রাণকেন্দ্র শপথ চত্তর মোড় থেকেও রিক্সা, অটোরিক্সা, বা নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়। শপথ চত্তর থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১/১.৫ কিলোমিটার আর বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২ কিমি।

পরিশেষে:

এরকম হাজার স্মৃতি ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৯মাস যুদ্ধ করে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। এখনও বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান। রক্তধারা স্মৃতিসৌধের মত এরকম হাজারো নাম এখনও আমাদের অজানা। আসুন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করি। আমার, আপনার আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই সমস্ত মুক্তিযুদ্ধের স্থান ও ঘটনাসমূহকে বাংলাদেশের ডিজিটাল মানচিত্রে মুক্তিপিনের মাধ্যমে পিন করি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়িত করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক ভুমিকা পালন করি। মুক্তিপিনে পিন করতে ভিজিট করুন- Priyo.com/muktipin

 

সম্পাদনাঃ প্রিয় ট্রাভেল/ জিনিয়া

প্রিয় ট্রাভেল সম্পর্কে আমাদের লেখা পড়তে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে। যে কোনো তথ্য জানতে মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। ভ্রমণ বিষয়ক আপনার যেকোনো লেখা পাঠাতে ক্লিক করুন এই লিংকে - https://www.priyo.com/post

 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...