ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ফাইল ছবি

দেশব্যাপী হঠাৎ কেন মাদকবিরোধী অভিযান, প্রশ্ন মওদুদের

‘আসলে দেশে আইন নেই। এ জন্যই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে। কারণ এই সরকার আইনের শাসনে, জনগণের মতামতকে বিশ্বাস করে না।’

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০১৮, ১৭:৩০ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৯:০১
প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০১৮, ১৭:৩০ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৯:০১


ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, সরকার হঠাৎ করে কেন মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করল?

৬ জুন, বুধবার এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ প্রশ্ন তুলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা।

জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন বন্ধ এবং মাহমুদুর রহমান ও শওকত মাহমুদসহ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা সন্ত্রাসের প্রতিবাদ’ শীর্ষক যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে বলে দাবি করেন মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, ‘গত নয় বছরে বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশে মাদকের বিস্তার লাভ করেছে। মাদকের সঙ্গে সরকারের সবাই জড়িত। এই সরকারই মাদকের সুযোগ করে দিয়েছে।

আজকে তরুণদেরকে মাদকের মাধ্যমে চেতনা থেকে দূরে রেখেছে সরকার। সরকার এতদিন কোথায় ছিল? হঠাৎ করে কেন মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করল? আসলে এর মাধ্যমে সরকার মানুষ হত্যার লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে। সংবিধানের কোথায় আছে যে বিচারবহির্ভূতভাবে মানুষ হত্যা করা যাবে?

আসলে দেশে আইন নেই। এ জন্যই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে। কারণ এই সরকার আইনের শাসনে, জনগণের মতামতকে বিশ্বাস করে না।’

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে নির্যাতন, নিপীড়ন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। কারণ এই সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। এই সরকার একদলীয় এবং ভোটারবিহীন অবৈধ সরকার। এ জন্যই সাংবাদিকদের ওপর বেশি নির্যাতন। কারণ তারা জনগণের মনের কথাগুলো লেখে এবং কিছুটা হলেও বলে।

আমি বলব, এসব নির্যাতন বন্ধ করতে হলে আমাদেরকে কঠিন আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমেই সভ্যতা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। আজকে সরকার বলছে উন্নয়নশীল দেশের কথা। কিন্তু সভ্যতা, মূল্যবোধ, গণতন্ত্র ও সুশাসন না থাকলে উন্নয়শীল বলাটা অর্থহীন।’

মওদুদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী করেছে। উচ্চ আদালত জামিন দিলেও নিম্ন আদালত জামিন দিচ্ছে না। তারা সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সত্যিকারার্থে আর নেই। মাসদার হোসেন মামলার কার্যকারিতাও নেই। আপনারা খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বিত করতে পারেন। কিন্তু তিনি মুক্তি পাবেন। আমাদের দলের নেতৃত্ব দেবেন।

বিএনপি বেগম জিয়ার নেতৃত্বেই আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে এবং বাংলাদেশে আগামী দিনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে ইনশাল্লাহ। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা প্রত্যাশা করি, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে।

বিশেষ করে গ্রামের ভোটারেরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন নিঃসঙ্কোচে। কোনো সমস্যা থাকবে না। এর বাইরে কোনো নির্বাচন জনগণ মানবে না, হতেও দিবে না।’

বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও ডিইউজে’র যুগ্ম সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএফইউজের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, সহ-সভাপতি আহমদ মতিউর রহমান, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি বাছির জামাল, ডিইউজের প্রচার সম্পাদক দেওয়ান মাসুদা সুলতানা, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

প্রিয় সংবাদ/হাসান/শান্ত