সিলেটের আতিয়া মহলে ‘জঙ্গিবিরোধী’ অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সবদস্যরা। ফাইল ছবি

‘জঙ্গিবাদের’ মামলাগুলোতে গতি নেই

৩৯টি মামলার মধ্যে পাঁচটির রায় প্রদান করা হয়েছে এবং ৩৪টি মামলা সারা দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আবু আজাদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০১৮, ২১:৪৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৩২
প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০১৮, ২১:৪৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৩২


সিলেটের আতিয়া মহলে ‘জঙ্গিবিরোধী’ অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সবদস্যরা। ফাইল ছবি

(ইউএনবি) গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ‘জঙ্গিগোষ্ঠীর’ আক্রমণের তীব্রতা দেখেছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সফলভাবে অনেক ‘হামলার পরিকল্পনা’ নস্যাতের দাবি করেছে।

অবশ্য এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলো যখনই তদন্ত ও বিচারের জন্য আসছে, তখন তাতে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পুলিশ সদর দফতরের সূত্র অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত দেশব্যাপী তথাকথিত ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলায় নিহত এবং টার্গেটেড হামলার ঘটনায় বিভিন্ন থানায় ৮৬টি মামলা দায়ের হয়েছে।

অধিকাংশ হামলার ‘দায় স্বীকার’ করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী এবং হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বহু কথিত ‘ইসলামি চরমপন্থিকে’ গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (গোয়েন্দা ও বিশেষ শাখা) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ৮৬টি মামলার মধ্যে পুলিশ ৩৯টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। ৩৯টি মামলার মধ্যে পাঁচটির রায় প্রদান করা হয়েছে এবং ৩৪টি মামলা সারা দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এ ছাড়া ৪৩টি মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। চার মামলায় পুলিশ এফআরটি (ফাইনাল রিপোর্ট) প্রদান করেছে। তবে যথেষ্ট প্রমাণের অভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচার করা যাচ্ছে না।

এ অতিরিক্ত ডিআইজির দাবি, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ৪৩১ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে হত্যা ও হামলার ঘটনায় ১৫২ জন অভিযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দিয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘অধিকাংশ জঙ্গি হামলার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামায়াত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) জড়িত। ৮৬টি মামলার ৭১টিতেই জেএমবি জড়িত। ১০টিতে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং পাঁচটি হামলায় অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।’

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর পল্লবীতে নিজ বাসার পাশে ব্লগার ও অ্যাক্টিভিস্ট আহমেদ রাজীব হায়দার (ছদ্মনাম থাবা বাবা) হত্যাকাণ্ডের পর কথিত ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠী আলোচনায় চলে আসে।

ওই বছরেই আরও চারজন ব্লগার ও প্রকাশককে জঙ্গিগোষ্ঠী খুন করে বলে অভিযোগ করা হয়।

২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দিপ এবং রিজওয়ানুল আজাদ রানাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। 

জঙ্গিবাদের মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা। ছবি: সংগৃহীত
জঙ্গিবাদের মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা। ছবি: সংগৃহীত

এ ছাড়া রাজীব হায়দারকে হত্যার দায় স্বীকার করা আনসারুল্লাহর প্রধান জসিমুদ্দীন রহমানির পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় একুশে বই মেলার পাশে প্রগতিশীল লেখক অভিজিৎ রায়কে হত্যার পর দেশব্যাপী জঙ্গি উত্থানের আশংকা বৃদ্ধি পায়। একই বছরের ৩১ অক্টোবর অভিজিতের প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দিপনকে হত্যা করা হয়।

গত ১১ জুন মুন্সীগঞ্জে আরেক মুক্তমনা লেখক, বামদল ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে সন্দেহভাজন জঙ্গিগোষ্ঠী গুলি করে হত্যা করে।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত