full-screen
remove-fullscreen
Avatar

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য , সাবেক মন্ত্রী এবং লেখক। তিনি ১৯৪৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গয়েশপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। খন্দকার মোশাররফ দাউদকান্দি হাইস্কুল থেকে ’৬২ সালে এসএসসি, ’৭০ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে এমএসসি, ’৭৩ সালে ডিআইসি ডিপ্লোমা এবং ’৭৪ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ৭৫ সালে দেশে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং পর্যায়ক্রমে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ’৮৭ থেকে ’৯০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূ-তত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। তিনি কুমিল্লা (উ.) জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি কুমিল্লা-২ আসন থেকে ৪ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১- ৯৬ সময়ে তিনি বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী, ’৯৬ সালে স্বল্পমেয়াদে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০০১-২০০৬ সময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রী থাকা কালে দাউদকান্দির উত্তরাঞ্চলে `নতুন উপজেলা তিতাস' প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রতিষ্ঠিত ড. খন্দকার মোশাররফ ফাউন্ডেশন লি:, বৃহত্তর দাউদকান্দিতে ২টি কলেজ, ৩টি হাই স্কুল এবং ১টি মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তি‌নি প্লাবন ভূমিতে মৎস্য চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশে মৎস্য খাতে উন্নয়নের আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। এই মৎস্য চাষ পদ্ধতি “দাউদকান্দি মডেল” হিসেবে সরকারী স্বীকৃতি পেয়েছে এবং তিনি এ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য জাতীয় পুরস্কার স্বর্নপদক লাভ করেন। সা‌বেক এই মন্ত্রী ২০০৩ সালে ৫৬ তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের সভাপতি র্নিবাচিত হন। উনার সভাপতিত্বে ফ্রেমওযার্ক কনভেনশন অন টোবাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) গৃহীত হয়। বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রন আইন প্রনয়ন এবং বিশ্বব্যাপী তামাক বিরোধী আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাকে ওয়ার্ল্ড নো টোবাকো এওয়ার্ড-২০০৪ পদকে ভূষিত করে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রতিথযশা ভূ-বিজ্ঞানী, খ্যাতিমান লেখক ও গবেষক। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির লক্ষে তিনি ৭১-এ বিলাত প্রবাসীদের সংগঠিত করেন এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক হিসেবে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেন। বিএন‌পির স্থায়ী ক‌মি‌টির প্রবীণ সদস্য ১৯৯০-এর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা রাখায়, ১৯৯৬-২০০১ সময়ে বিদ্যুৎতের টাওয়ার ভাঙ্গার মিথ্যা মামলায়, ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত জরুরী সরকারের সময় এবং গাড়ী পোড়ানো ও সচিবালয়ে বোমা নিক্ষেপ এবং দুর্ণী‌তির অ‌ভি‌যো‌গে মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। ভূ-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মৌলিক গবেষনা ও অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তার জীবন বৃত্তান্ত “হু ইজ দি ওয়ার্ল্ড” কেমব্রিজ বায়োগ্রাফী জার্নাল এবং আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনিষ্টিউশন প্রকাশিত পুস্তকে অর্ন্তভুক্ত হযেছে। ভূ-তত্ত্ব বিষয়ে ষ্ট্রাকচারাল এ্যানালাইসিসে তার নতুন উদ্ভাবন `হুসেইন’স মেথড অব এক্সটেনশন' আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। তিনি নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী প্রফেসর আব্দুস সালাম প্রতিষ্ঠিত আইসিটিটি এর এসোসিয়েট সদস্য এবং থার্ড ওয়ার্ল্ড একাডেমী অব সায়েন্স এর একজন ফেলো।

চব্বিশ ঘণ্টায় বাংলাদেশঃ (৪৮)

জনপ্রিয়