full-screen
remove-fullscreen
Avatar

হোসনে আরা বেগম

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ

হোসনে আরা বেগম ১৯৫৮ সালের ২৬ মার্চ পটুয়াখালি জেলার কলাপাড়ায় নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দাদা বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার দক্ষিন বোথলা গ্রামে। তার বাবা মরহুম মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার ছিলেন সুগার মিলের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক। গত বছরের ১৬ই ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন। মা মাহমুদা বেগম গৃহিনী। আবদুল জব্বার ও মাহামুদা বেগমের সাত সন্তানের মধ্যে হোসনে আরা বেগম দ্বিতীয়। বড় ভাই ইঞ্জিনিয়ার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। মেজ ভাই ফরিদ উদ্দিন ব্যবসায়ী। সেঝ ভাই জাহিদ হোসেন কানাডার মিরামিচিতে সরকারী ডাক্তারের দায়িত্ব পালন করছেন। আর ছোট ভাই জাকির হোসেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস প্রিন্সিপাল। বোনদের মধ্যে ফেরদৌস আরা গৃহিনী। তার স্বামী নৌবাহিনীর কমোডোর। আরেক বোন দিলরুবা বেগম, ইনিও গৃহিনী। স্বামী রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায়ী। স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে হোসনে আরা বেগমের পরিবার। স্বামী জাহিদুল ইসলাম রিয়েল এস্টেট ও শেয়ার ব্যবসা করেন। বড় মেয়ে হোমায়রা ইসলাম ইউল্যাব থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে মার্স সল্যুশন নামের একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। ছেলে তানভীর তাবাসসুম জার্মানীর রাভেঞ্জবুর্গে ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করছেন। ইতিমধ্যেই সে এডুকেশন গসিপ নামের একটি ডিজিটাল স্কুল প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে। শিক্ষাজীবন হোসনে আরা বেগমের প্রথম স্কুল হচ্ছে দর্শনা কেরু এন্ড কোম্পানী স্কুল। বাবার চাকরী সুত্রে বিভিন্ন কখনোই একই স্থানে স্থায়ী ছিলেন না। আনুমানিক ১৯৬৮ সালে তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেনী পাশ করেন। ১৯৭৩ সালে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও বেগম বদরুদ্দোজা সরকারী কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও ১৯৯৬ সালে মাটি জরিপের উপর উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে নেদারল্যান্ড থেকে ১ বছর মেয়াদী একটি কোর্স সম্পন্ন করেছেন। প্রথম আয় এই সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী থাকা কালেই আমি নিজের হোস্টেল খরচ যোগাতে কিছু হাতের কাজ করা শুরু করি। এই যেমন কুশন কভার, উল দিয়ে নানা রকম পোষাক, ম্যাট ইত্যাদি। এছাড়াও এসময় কিছু গল্প-কবিতাও লেখালেখি করতাম। সেখান থেকেও কিছু অ্যায় হতো। কর্মজীবন সাদাসিধে কর্মজীবনে নিতান্তই সাধারণ এই সরকারী কর্মকর্তা ১৯৮৩ সালের ৩ এপ্রিল ফরিদপুর সদরে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ৭৫০টাকা বেতনে প্রথম কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। এসময় বাংলাদেশে প্রথমবারের মত যেই ৪০জন নারী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ পান, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন হোসনে আরা। এরপর ১৯৮৭ সালে টাঙ্গাইল সদরে, ৮৯ সালে জামালপুর সদরে এবং ৯১সালে মুন্সীগঞ্জ সদরে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মাঠ পর্যায়ের দায়িত্ব পালনো করেন। এরপর ১৯৯২ সালের জুন মাসে তথ্য মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে ফিরে আসেন ঢাকায়। চার মাস পর বদলী হন কৃষি মন্ত্রনালয়ে। একই পদে ৯৬ সালের জুন পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে চলে যান নেদারল্যান্ড। সেখান থেকে ফিরে ১৯৯৯সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০০সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহের ত্রিশালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পদোন্নতি পেয়ে ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০১০ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের এবং ২০১১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষন কেন্দ্র যুগ্ম-সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। বর্নাঢ্য এই কর্মজীবনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০১০ সালে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে এনডিসি ডিগ্রী লাভ করেন। সরকারী এই কর্মকর্তার অপ্রাপ্তি জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার পিএইচডি করার খুব ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু কর্মজীবনে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে এই সাধ আর পূরণ হয়নি। তবে মানুষের ভালোবাসা আমার এই কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে তাই অপ্রাপ্তির চেয়ে আমি বলবো আমার অর্জনটাই অনেক বেশি। কি হওয়ার কথা ছিলো কি হয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিজ্ঞানী হওয়ার কথা ছিলো হয়ে গেলাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা। ছাত্রজীবন থেকে ইচ্ছা ছিলো উদ্ভিদ বিজ্ঞানে ভালো কিছু করবো। তখন টিস্যু কালচার নিয়ে গবেষণা করেছি। জার্মানীতে আমাদের একটা গবেষণা পত্র প্রকাশও হয়েছিলো এই টিস্যু কালচারের ওপর। ভেবেছিলাম এই বিষয়ে দেশে আলোড়ন ফেলে দিবো, কিন্তু তা আর হলোনা। আর বাবা-মা'র ইচ্ছে ছিলোয়ামাকে তারা ডাক্তার বানাবে। নিজের সম্পর্কে সিক্রেট সম্পর্কে হোসনে আরা বলেন, আমার সম্পর্কে গোপন বলতে কিছু নেই, আমার সব কিছুই সবাই জানে। তবে আমার একটা দূর্বলতা হচ্ছে আমি মানুষকে অল্পতেই বিশ্বাস করি। এইজন্য ইতিমধ্যে ঠকেছিও অনেকবার।

চব্বিশ ঘণ্টায় বাংলাদেশঃ (৪৭)

জনপ্রিয়