Avatar

সুস্মিতা আনিস

নজরুল সঙ্গীত শিল্পী

সুস্মিতা আনিস নজরুল সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী শিল্পী ফিরোজা বেগমেরঅনুগত শিষ্যা।তার জন্ম এমন একটি পরিবারে যেখানে সঙ্গীতচর্চা পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। পড়তে লিখতে শেখার আগেই সেই ছোটবেলাথেকেই সুস্মিতা আনিসের ফুপু ফিরোজা বেগম তাকে গান শেখাতেন। অত্যন্ত যত্নের সাথে ফিরোজা বেগম তাকে নজরুল ও অন্যান্য সঙ্গীতেরশ্রুতি ও চলন শিখিয়েছেন।

সুস্মিতা আনিস বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিশু শিল্পী হিসেবে গান গেয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন আয়োজিত প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘নতুনকুঁড়ি’-তে ১৯৭৬ সালে নজরুল সঙ্গীতে প্রথম পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ফুপু ফিরোজা বেগমের কাছ থেকে গানে নিবির ভাবে শিক্ষা নিয়েছেন এবং নিবির ভাবে ফুপু তাকে সযত্নে আপন সন্তানের মতই জ্ঞান দান করেছেন।

সুস্মিতা আনিস আমেরিকাতে গ্রাফিক ডিজাইনে পড়াশুনা করেছেন।প্রতি গ্রীষ্মের ছুটিতে তিনি ঢাকায় আসতেন এবং তার ফুপু ফিরোজা বেগমের কাছ থেকে স্ববিস্তরে তালিম নিতেন।লেখাপড়া শেষ করে তিনি আমেরিকাতেই স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন। তবে প্রতি গ্রীষ্মে তিনি দেশে আসতেন এবং ফুপুর অজস্র গানের ভাণ্ডার থেকে গান তুলে নিতেন। এই সময় গুলোতে ফুপুর সাথে এই সঙ্গতে সবসময়ই কোন না কোন বিশেষ ঘটনা ঘটতো।

কলকাতা ভিত্তিক রাগা মিউজিক ১৯৯৮ সালে সুস্মিতা আনিসের আধুনিক বাংলা গানের প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ করে। গানগুলো সুর করেছেন কমল দাসগুপ্ত আর নির্দেশনায় ছিলেন ফিরোজা বেগমের। ২০০৬-এর গ্রীষ্মে এইচএমভি কলকাতা তার দ্বিতীয় অ্যালবামটি প্রকাশ করে। এই অ্যালবামটিরও নির্দেশনায় ছিলেন ফিরোজা বেগম। ২০০৭ সালে তার তৃতীয় অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। আধুনিক বাংলা গানের এই অ্যালবামের নির্দেশনায় ছিলেন ফিরোজা বেগম।২০০৮ সালে তার সমকালীন বাংলা গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। এই অ্যালবামটিই তার প্রথম অ্যালবাম যা কিনা ফিরোজা বেগম স্বয়ং তত্ত্বাবধায়ন ছাড়াই তাকে প্রকাশ করতে সম্মতি দেন।

২০০৯ সালে সুস্মিতা আনিস বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং ব্যাবসাকে ক্যারিয়র হিসেবে গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি কখনই গান থেকে দূরে থাকেননি কিংবা ফুফুর কাছ থেকে গানে তালিম নেয়া বন্ধ রাখেন নি। এই সময়টাতে তার বেশির ভাগ সময় কেটেছে ফুফুর কাছ থেকে সুরের সূক্ষ্ম কারুকাজগুলো শিখে নেয়ায়, সূরারোপের কৌশলগুলোকে শিখে নেয়ায়, যা কিনা ফিরোজা বেগমের একেবারে নিজস্ব গায়কী। ফিরোজা বেগম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া অবধি চলে এই তালিম গ্রহণ। ফিরোজা বেগম ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন। ফিরোজা বেগমের মৃত্যু সুস্মিতা আনিসের জন্যে গভীরভাবে শোকবহ এবং অপূরণীয় ক্ষতি।

২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য মন্ত্রী মমতা ব্যানারজি স্রদ্ধ্যেয় ফিরোজা বেগমকে সঙ্গীতে তাঁর আজীবন অবদানের জন্যে ‘মহা গুরু’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এই সময় সুস্মিতা আনিস তাঁর পাশে ছিলেন। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধে সুস্মিতা আনিস ফিরোজা বেগমের পক্ষ থেকে মরণোত্তর ‘বাংলা বিভূষণ’ পুরস্কার গ্রহণ করেন। এককভাবে সুস্মিতা আনিস তার সঙ্গীত জীবন এই শুরু করলেন ফিরোজা বেগম স্মরণে আগামী অগাস্টে নজরুল সঙ্গীতের একটি একক অ্যালবাম প্রকাশের মধ্য দিয়ে।

বাংলাদেশে আসা অবধি সুস্মিতা আনিস তার চাচা মহাম্মদ আসা ফুদ্দৌলার কাছ থেকেও ধ্রুপদী সঙ্গীতে তালিম গ্রহণ করছেন।মহাম্মদ আসা ফুদ্দৌলা স্বনামধন্য শিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ, গীতিকার এবং সুরকার।

সুস্মিতা আনিস তার এই দু’জন বিখ্যাত সঙ্গীত গুরুর কাছ থেকে সঙ্গীতে যে শিক্ষা লাভ করেছেন তা যথাযথ ভাবে কাজে লাগাতে চান।তিনি চান সর্ব সাধারণের মাঝে, বিশেষতঃ তরুণদের মাঝে,নজরুল সঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তুলতে।তার লক্ষ্য সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে জীবনকে পূর্ণ করা তার নিজের জন্যে এবং তারশ্রোতাদের জন্যে।

 

চব্বিশ ঘণ্টায় বাংলাদেশঃ (৫০)